বাংলা ব্লগ। নার্সি-নাসির।
টরোন্টো, কানাডা থেকে ইশতিয়াক আহমেদ
সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা। এক লোকের কাঁধে একটি ব্যাগে হঠাৎ চোখ আটকে গেল। ব্যাগের গায়ে লেখা, "এই ব্যাগটি সবুজ"। দেখতে ব্যাগটি কুচকুচে কালো এবং সবুজ রঙের ছিঁটেফোঁটাও তাতে খুঁজে পেলাম না। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরির এই ছোট্ট, অভিনব ব্যাপারটায় বেশ অভিভূত হলাম। পরিবেশবাদীরা তো আছেনই, মোটামুটি সব অঙ্গনের খ্যাতিমান লোকজন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অব্দি আজকাল সবুজ সচেতন হয়ে উঠছেন। যেকোন কিছুতে একটা সবুজাভ মাত্রা যোগ করার পন্থা খুঁজে বের করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অফিসে হয়ত কোন ই-মেইল প্রিন্ট করতে চাইছি, দেখি নিচে প্রেরক তার ইমেইল স্বাক্ষরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে -- "সত্যি কি ইমেইল-টা প্রিন্ট করাটা জরুরী?" বাসে বা প্লেনে চড়তে গেলে দেখা যায়, ওই ভ্রমণে নির্গত কার্বন পুশিয়ে নেয়ার তহবিলে দান করার ব্যবস্থা করে রেখেছে। কিছুদিন আগে এক ইমেইলে দেখি একটি কোম্পানী তাদের সার্ভার কার্বন নিরপেক্ষ বলে দাবি করছে। এধরণের হাজারো উপায়ে পরিবেশকে সবুজ করার প্রচেষ্টা চলছে সারা বিশ্বব্যাপী।
বুয়েটের হল জীবনে এক রুমমেট বন্ধুর ডাক নাম ছিল "সবুজ" -- এর বাইরে সবুজের সাথে আমার সম্পৄক্ততা নিয়ে বলার মত কিছুই ছিলনা। তবে গত বছর খানেক ধরে চেষ্টা করছি এর সাথে কিছু যোগ করা যায় কিনা। টরোন্টোর এক বন্ধুকে নিয়ে একটি ভিডিও ব্লগের সাইট খুলেছি বেশ কিছুদিন। উদ্দেশ্য ছিল সবুজ-সচেতন ভিডিও শেয়ারের মাধ্যমে লোকজনকে এই ব্যাপারে কিছুটা উদ্বুদ্ধ করা। সময়ের অভাবে অবশ্য এখনো পর্যন্ত তেমন প্রচার চালাতে পারিনি। পুনর্ব্যবহার উপযোগী পাটের ব্যাগের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিছু বন্ধু মিলে চেষ্টা করছি এই সুযোগে সোনালী আঁশকে এখানকার সমাজে ঢোকানো যায় কিনা। তাতে করে পরিবেশ রক্ষা এবং দেশের প্রবৃদ্ধি দুটোই হল।
সবাই যদি খানিকটা সচেতন হয়ে ওঠে তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই এই পৃথিবী হয়ত অনেক বেশি বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। বলা যায়না পৃথিবীর সংজ্ঞাও হয়ত আমরা বদলে দিতে পারব -- পৃথিবী সৌর জগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ, আকারে প্রায় গোলাকার, দুপাশ কমলালেবুর মত চ্যাপটা, এবং ... দেখতে সবুজ।