Yahoo! 360° News | Beta Feedback
Start your own Yahoo! 360° page

ppm

Top Page  |  Blog  |  Feeds  |  Friends  |  Lists

  • School: Yale University

Add

ppm is not connected to you in Yahoo! 360°.

Last updated Fri Aug 17, 2007 Member since July 2005

Total Page Views

144,637

Tag Cloud

হারে রেরে রেরে, আমায় ছেড়ে দেরে দেরে Reply

1 - 5 of 178 First | < Prev | Next > | Last

বল গো Full Post View | List View

বাংলা ব্লগ। নার্সি-নাসির।

মোবি ডিক
ঠিক মনে করতে পারছিনা কেন, হঠাত্ ঠিক করলাম হারমান মেলভিলের লেখা পড়তে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম তার প্রধান উপন্যাস দুটি -- মোবি ডিক, আর বিলি বাড, নাবিক। ঠিক করলাম প্রথমে বিলি বাড পড়ব। এর একটা কারণ এই যে উপন্যাসটি সংক্ষিপ্ততর, মোবি ডিকের ৫০০ পাতার মেদ হজম করাটি কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। বিলি বাড অনেক ছোট, উপন্যাসিকা বললেই হয়।

এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে প্রত্যেকদিন বিলি বাড খুলে নিতাম বিছানায় শুয়ে, ঘন্টাখানেকের ধস্তাধস্তিতে তিন চার অনুচ্ছেদ পড়তাম, মাথায় কিছুই প্রবেশ করত না -- এবং অতিদীর্ঘ গসাগু কষবার সময় যেভাবে খাতার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দাগ ও সংখ্যা ক্রমশ-হ্রস্ব হতে হতে মিলিয়ে যায়, আমার উত্সাহও একই প্রক্রিয়ায় খাট হতে থাকল। যে সংকলনের অংশ ছিল উপন্যাসটি, অনেক কষ্টে সেখান থেকে একটি ছোট গল্প পড়ে নিজের মেলভিল অাগ্রহের সলিল সমাধি দিলাম।

যেটা করা উচিত ছিল, সেটাই করা শুরু করলাম কিছুদিন আগে। মোবি ডিক পড়া শুরু করলাম। মোবি ডিক মেলভিলের প্রধান উপন্যাস, এবং মার্কিন সাহিত্যের মহত্তম মাস্টারপীস-গুলির মধ্যে গণ্য। অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী। তিমি মেরে তার তেল বের করে বিক্রি করাটি কয়েক শত বছর যাবত একটা বিরাট ব্যবসা ছিল। ম্যাসাচুসেটস-এর উপকূল থেকে একটি তিমি ধরা জাহাজ এই একই কারণে রওনা দেয়, কিন্তু রওনা দেয়ার পর জাহাজের নাবিক ও শিকারীরা জানতে পারে যে এই যাত্রার উদ্দেশ্যটি একটু ভিন্ন। মোবি ডিক নামে পরিচিত বিশালায়তন, হিংস্র ও অসাধারণ বুদ্ধিমান একটি বিশেষ তিমিকে মারাটাই এই যাত্রার লক্ষ্য, কারণ জাহাজের ক্যপ্টেন এহ্যাব এর আগের এক যাত্রায় এই তিমির হাতে তার পা, কিছু সহযাত্রী এবং মান-সম্মান খুইয়েছেন। সারা পৃথিবীর মহাসাগরগুলিতে ঘুরে এহ্যাবের জাহাজ খুঁজে বেড়াতে থাকে মোবি ডিককে, আর মাঝে মাঝে তাদের দেখা হয় সেই তিমির হাতে পরাজিত অন্য জাহাজের বিষন্ন নাবিকদের সাথে। ভয়ংকর টেনশন! টেনশন আরো বেশি, কারণ মোবি ডিক সুবিখ্যাত হলেও শিকারীরাও কম নয়, জাহাজের অসাধারণ হারপুন ক্ষেপকদের সাথে মেলভিল আমাদের খুব ভাল ভাবেই পরিচয় করিয়ে দেন।

শেষ সীনে কি হয়, সেটা অবশ্যই এখানে বলছিনা। তবে বইটি আবার পড়বার প্রয়োজন বোধ করছি। আমার বদভ্যাস আছে, গোয়েন্দা কাহিনী বা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী প্রথমবার ঠিক রসিয়ে রসিয়ে পড়তে পারিনা -- বাসে করে দীর্ঘ যাত্রার পর অনেকক্ষণ চেপে রাখা যাত্রী যেভাবে হালকা হওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন, কাহিনীর শেষ জানবার জন্য কিছুটা সেভাবেই অগ্রপশ্চাত না তাকিয়ে এগোতে থাকি। মোবি ডিক তার অ্যাডভেঞ্চার-আবহ সত্বেও সূক্ষ্ম ব্যাপার, অন্তত আরেকবার না পড়লে চলবে না।

উল্লেখ্য, বিলি বাডের যে সমস্যা, মোবি ডিকেও সেটা রয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজী গদ্য কঠিন, এবং অতি দীর্ঘ বাক্যে আকীর্ণ, কিন্তু আমার (অল্প) অভিজ্ঞতায় মেলভিলের মত আর কিছুই নয়। তবে মোবি ডিকের করলা খেয়ে সুবিধে হয়েছে, বিলি বাডের নিম আর ততটা অসহ্য মনে হচ্ছেনা। পরশুদিন থেকে আবার ধরেছি বিলি বাড, পাঁচ পাতা পড়েছি।


Wednesday June 24, 2009 - 06:58pm (PDT) Permanent Link | 0 Comments
৩৬০ উঠে যাচ্ছে
ইয়াহু ৩৬০ উঠে যাচ্ছে। ইয়াহু কোম্পানীটি দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে! ফলে এই ব্লগটি এখানে আর বেশি দিন থাকবে না। ওয়ার্ডপ্রেসের কপিটির পাশাপাশি ইয়াহু প্রোফাইলে এটি থাকবে।

Wednesday June 10, 2009 - 09:08pm (PDT) Permanent Link | 0 Comments
স্টাইনবেক সরলতা ২
অভ মাইস এন্ড মেন এর পটভূমিকা ১৯২০ এর ক্যালিফোর্নিয়া। ছবির প্রধান চরিত্র জর্জ এবং লেনি, তারা কৃষি-শ্রমিক, ঘুরে ঘুরে মধ্য ক্যালিফোর্নিয়ার র ্যাঞ্চ-গুলিতে কাজ করে। লেনি পাগল ধরনের, কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী। যেখানেই তারা কাজ করতে যায়, লেনি কিছুদিনের মধ্যে একটা ভয়ংকর ধরণের দুর্ঘটনা ঘটায়, এবং জর্জ ও তাকে পলায়ন কার্য সমাধা করতে হয়। এরকমই একটি জায়গা থেকে পালিয়ে বেশ দূরে নতুন র ্যাঞ্চে কাজ খুঁজে নিতে এসে সালিনাস নদীর তীরে যখন তারা এসে বসেছে, তখন থেকে স্টাইনবেক তাদের সঙ্গ নিয়েছেন। এই ছোট উপন্যাসের নাটকীয় গঠন এই সূচনা-পর্বেই স্পষ্ট, কাহিনীর বিকাশের যাবতীয় উপাদান -- লেনির বিপজ্জনক কিন্তু সরল ও অগঠিত মন, তদসত্বেও তার প্রতি জর্জের গভীর স্নেহ, কিছুটা টাকা জমিয়ে নিজেদের কিছু জমি কেনবার তাদের যৌথ স্বপ্ন -- এসবই সেই নদীর ধারেই আমরা জানতে পারি। এর পর যেভাবে গল্পটি গড়িয়েছে, তা খুব অপ্রত্যাশিত না হলেও মর্মস্পর্শী।

লেখকের একটি স্টাইল হল -- একটা অধ্যায়ের শুরুতে প্রকৃতি বা স্রেফ একটা ঘরের পেন্টার-সুলভ বর্ণনায় কিছুটা সময় নেন, পরিবেশ তৈরি করেন। এই স্টাইলকে সিনেমাসংগতও বলা চলে, চলচ্চিত্রে যেমন একটি নতুন সিকুয়েন্স শুরু হয় বর্ণনাধর্মী মাস্টারশট দিয়ে, অনেকটা সেরকম। তার পরই সাধারণত চরিত্রগুলির মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়, এবং শুরু হয় জন স্টাইনবেকের প্রধান সাধনা -- মানুষের আশা-আকাঙ্খা কিভাবে অন্য মানুষের সাথে তার সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, তার অনুসন্ধান --

"দেখ, এসব কথা আমি কাউকে আগে বলিনি। বলা উচিতও না হয়ত। আমার স্বামীকে আমার পছন্দ না। সে লোক ভাল নয়।" মেয়েটি গোপন কথাগুলি তাকে বলল, আর বলল বলেই তার আরও কাছে এগিয়ে এল, আর বসল পাশে।

যে মেয়েটির কথা বলা হচ্ছে, কিছুক্ষণ আগে সে বইয়ের কালো একটি চরিত্রকে এমন কটি কথা বলেছে, সাহিত্যর ইতিহাসে তার মত অমানবিক, হিংস্র কথা বোধহয় খুব কমই আছে -- এখন এই এক বাক্যাংশে স্টাইনবেক তার মনুষ্যত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করলেন। সহজ কথা নয়!

বইটা শেষ করার দিন চারেক পরে নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টের পুরনো দু-বন্ধুর সাথে দেখা করলাম। রেস্টুরেন্টে প্রচণ্ড ভিড়, আর বসার জায়গা পাওয়ার জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে জিজ্ঞেস করে বারবারই মিছে কথা শুনতে হচ্ছে, তার পরও তীর্থের কাকের মত দাঁড়িয়ে আছি -- কারণ দেখতে পাচ্ছি রেস্টুরেন্টের ভেতরে সুন্দরী নারীদের অত্যন্তাধিক্য। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এটা-সেটা আলাপ করতে করতে অভ মাইস এন্ড মেন-এর কথা উঠতে এক বন্ধু জানাল -- স্টাইনবেক তার প্রিয় লেখক, অভ মাইস এন্ড মেন খুব ভালও, কিন্তু তার মতে স্টাইবেকের লেখা গুলির মধ্যে এটা নাকি দুর্বলতম। শুনে ঘাবড়িয়ে গেছি। তাঁর সেরা বই কোনটা জিজ্ঞেস করাতে বন্ধুবর জানাল, ইস্ট অভ ইডেন। চুপ করে শুনলাম, নাড়লাম মাথা। এটা আর জানালাম না যে সেই শিল্পকর্মটির সাথেও আমার পরিচয় আছে, এলায়্যা কাজান আর জেমস ডীন-এর ফিল্মের মাধ্যমে। এ ছোকরা আবার ফিল্মের তেমন ভক্ত নয়।

শেষ।

Friday June 5, 2009 - 08:29pm (PDT) Permanent Link | 0 Comments
স্টাইনবেক সরলতা ১
জন স্টাইনবেকের সাথে আমার পরিচয় জন ফোর্ড-এর বরাতে। স্টাইনবেকের বিখ্যাত উপন্যাস গ্রেপ্স অভ র ্যাথ-এর বিখ্যাত চিত্ররূপ দিয়েছিলেন ফোর্ড। এটি আমার সবচেয়ে পছন্দের ফোর্ড-ছবি নয়, সে সম্মান গত বছর খানের ধরে "আমার প্রিয়তমা ক্লেমেন্টাইন" ছবিটিকে দিয়ে আসছি। তবুও জন ফোর্ডের অধিকাংশ চেনা-জানা ছবির মতই, গ্রেপ্স অভ র ্যাথ-এর সৌন্দর্য অসাধারণ। কিন্তু ফিল্মের সাথে পরিচয় মানে লেখকের সাথে খুব ভাল পরিচয় নয়, বিশেষত ফিল্মমেকার যখন শক্তিশালী, আর বিশেষত যখন ছবি আর ফিল্মের মধ্যে বেশ বেমিল রয়েছে বলে জানা যায়। স্টাইনবেকের সাথে আমার সম্যক পরিচয় ঘটেছে খুব সম্প্রতি একটি বই পড়ে।

নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনের পাশে একটা বড় বইয়ের দোকান আছে -- কাজ না থাকলে, বা থাকলেও, সেখানে মাঝে মাঝে ঘোরাফেরা করি। সেখান থেকেই স্টাইনবেকের একটি বই কিনেছিলাম, বইটার নাম অভ মাইস এন্ড মেন। স্টাইনবেকের এক সারি বইয়ের মধ্যে এটা বাছবার কারণ বইটির বেধ -- শ' খানেক পৃষ্ঠা হবে বড়জোড়। বই পছন্দের অলসতা-সম্ভূত এই কারণটি বলতে লজ্জা পেতে পারতাম, কিন্তু পাচ্ছিনা, কারণ এটি আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বইগুলির অন্যতম।

বড় লেখকের মোটা বই ভাল, না সরু বই? মোটা বই খুব ভালই হতে পারে, তবে কোন বই আছে, যেগুলোতে লেখকের পরিশ্রমের একটা কঠোর ছাপ, ফলে পড়তেও খুব কষ্ট হয়। যেমন, পুলিটজার পুরস্কার বিজয়ী ফিলিপ রথের অ্যামেরিকান প্যাস্টোরাল নামে একটা বই পড়ছিলাম, অর্ধেক পড়ে ছেড়ে দিয়েছি। রথ খুব পরিশ্রমী, তীক্ষ্নবুদ্ধি লেখক সন্দেহ নেই, কিন্তু তার জটিল গদ্য ছোলাসুদ্ধ কাঁঠালের মত আর উদরসাত্ করতে আর পারছিলাম না।

স্টাইনবেকের গদ্য তুলনায় সরল। এভাবে শুরু করছেন তাঁর জাদুকরী গল্প --

সোলেদাদের কয়েক মাইল দক্ষিণে এসে সালিনাস নদী পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চলে -- নদী গভীর, সবুজ। আর তার জল বেশ গরম...

স্টাইনবেকের ইংরেজীতে এই বাক্যদুটির মধ্যে কি যেন আছে আশ্চর্য রসায়ন, বেশ বার কয়েক বার পড়ে আমার মনে হয়েছে বাক্য গঠনের সরলতা প্রথম বাক্যের শেষ অংশের "গভীর" শব্দটার সাথে মিশে এই অভিঘাতটা তৈরি করেছে।

চলবে...
Sunday May 24, 2009 - 06:53pm (PDT) Permanent Link | 0 Comments
লোলা মন্তেস
লোলা মন্তেস আমি পরপর তিনবার দেখেছি কিছুদিন আগে। প্রথম বার বিস্ময়বোধের তীব্রতার কারণে মুখে তেমন কোন ভাবের প্রকাশ ছিলনা। দ্বিতীয়বারে বেরিয়ে আসার সময় মুখে যে পায়েস-খাওয়া হাসি ছিল, সেটি দেখে বাইরে লাইনে পরের-শো-ধরবার-জন্যে-দাঁড়ানো একজন বললেন, "বাহ, খুশি খুশি সব দর্শক!"। তৃতীয়বার এব্যাপারটায় সচেতন থাকবার চেষ্টাসত্বেও একটা তদ্গত মুগ্ধতার ছাপ এড়ানো সম্ভব হয়নি। নান্দনিক আনন্দের চুড়ান্ত যাকে বলে!

লোলা মন্তেস ছবিটি পঞ্চাশের দশকে বানিয়েছিলেন ম্যাক্স ওফ্যল্স। আমার কাছে ম্যাক্স ওফ্যল্স আর গিরিশ ঘোষ একই, অর্থাত্ তাঁর নাম কারণে-অকারণে অনেক শুনেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পকর্মের সাথে কোন পরিচয় ছিলনা। তাছাড়া, ছবিটি একরকম হারিয়ে গিয়েছিল। লোলা মন্তেস বাজারে মার খাবার পরে প্রযোজকেরা ছবিটি রি-এডিট করেছিলেন ইচ্ছেমত -- ছবির মাস্টার কপিও বোধহয় আর সুরক্ষিত ছিলনা। দীর্ঘদিন পরে গতবছর ফ্রান্সের সিনেমা আর্কাইভ ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ছবিটি ওফ্যল্স-এর আদি পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্নিমিত করে। নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উত্সব ২০০৮-এ লোলা মন্তেস দেখানো হচ্ছিল, কিন্তু অনেক আগে খোঁজ করেও টিকিট পাইনি। এতদিন অপেক্ষা করে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি সিনেমা হলে এক সপ্তাহের জন্য ছবিটি দেখাচ্ছে জেনে দেখতে যেতেই হল।

দেদার বাজনা ও ঝাড়বাতির দৃশ্যটি একটি সার্কাসের, এটা বোঝা গেল যখন হাতে একটা চাবুক নিয়ে সং-পরিবেষ্টিত সার্কাস-মাস্টার ঘোষণা করতে থাকেন রাতের সেরা আকর্ষণ লোলা মন্তেস-এর আগমনবার্তা। মায়াবিনী, সার্কাসের অন্যান্য পশুর চেয়ে বহুগুণে হিংস্র, এবং ইউরোপ মহাদেশের বহু খ্যাত-অখ্যাত পুরুষের মস্তক চর্বণকারিণী -- ইত্যাকার বিশেষণ-বিভূষিতা লোলা মন্তেস একটা খোলা ঘোড়া-টানা-ছ্যাকড়া গাড়ি ধরনের জিনিসে চেপে উপস্থিত হলেন। সার্কাসের শো-টি আর কিছুই নয় -- লোলার কেচ্ছা-কেলেংকারীর জীবনের কিছুটা আদিরসাত্মক পুনরাভিনয়। পুরো ছবি জুড়ে এটাই চলল, আর ছবি শেষ হল যখন শেষ হল অভিনয় -- কিন্তু এর ফাঁকে ফাঁকে একটু অবসন্ন লোলার স্মৃতি-চারণের ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম ফ্ল্যাশব্যাক শুরু হচ্ছে রোমান্টিক পিয়ানো বাজনা দিয়ে, তারপর দেখছি গ্রামের পথ ধরে চলেছে ঘোড়ায় টানা বেশ বড় ধরণের একটি গাড়ি। গাড়িটি থামিয়ে গাড়োয়ান নেমে এসে একটা মাইল পোস্ট দেখছেন, আর এর মধ্যে গাড়ির ভেতর থেকে লম্বা দেহ এবং চুলওয়ালা এক ভদ্রলোক গলা বের করেছেন। তাঁকে গাড়োয়ান চিত্কার করে বললেন, "মিস্টার লিস্ত, আর বেশিদূর নয়"! এই পর্যায়ের আমি হেসে ফেলেছিলাম, কারণ আমার কেন যেন ধারণা হয়েছিল ওফ্যল্স রসিকতা করছেন। কিন্তু তার পরেই দেখি, তা নয়, লম্বাচুলো ভদ্রলোক আসলেই সংগীতকার ফ্রানজ লিস্ত, এবং লোলা মন্তেসের অন্যতম ও তত্কালীন প্রণয়ী (গাড়ির ভেতর লোলা অবস্থান করছিলেন)। এই লিস্ত সিকুয়েন্সটি (অন্য সব সিকুয়েন্সের মতই) অসাধারণ, আমরা দেখলাম ইউরোপ বিজয়ী সংগীতশিল্পীর তীব্র আত্মপ্রত্যয় -- বললেনও লিস্ত একপর্যায়ে "প্রিয়তমা, আমি ফ্রানজ লিস্ত!" -- কিন্তু লোলার প্রায় জান্তব কনফিডেন্সের তুলনায় তা কিছুই নয়। ওফ্যল্স তার কাহিনীটি বলে ফেলছেন প্রথমেই -- গর্বিত লোলার পতন কাহিনীই ছবির কাহিনী। এই ঝুঁকি বিরাট ঝুঁকি, গল্প বলার কায়দাটি খুব খাশা না হলে দর্শক অচিরেই আগ্রহ হারাতে বাধ্য।

ওফ্যল্স এর টেকনিক অত্যন্ত সাংগীতিক, এত বেশি যে ছবিটির মধ্যে একটা মিউজিক ভিডিও মিউজিক ভিডিও ভাব পর্যন্ত চলে এসেছে। ক্যামেরার নড়াচড়াকে ওফ্যল্স তবলার সংগতের মত ব্যবহার করেছেন মানবদেহের গড়ন-বলন-চলনের সেতার বাদনের সাথে। আমার সন্দেহ, কাউকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখলেই ওফ্যল্স-এর ভাব-সমাধি হত -- একটি ফ্ল্যাশব্যাকে সার্কাস মাস্টারের সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামার দৃশ্যটি যে সুস্পষ্ট আনন্দের সাথে তুলেছেন পরিচালক, তার পরে আর এ ব্যাপারে সন্দেহ করা চলেনা। অনেক অসাধারণ ছবির দৃশ্য ফটোগ্রাফের মত মনে ছাপ কেটে যায় -- কিন্তু লোলা মন্তেসের একটি স্থির ইমেজও আমার মনে পড়ছেনা, শুধু মনে পড়ছে অনেক শটের অপ্রত্যাশিত গতিময়তা -- সেই সিঁড়ি বাওয়ার শট, একই সিকুয়েন্সে একটি চুম্বন-দৃশ্য, লোলার হঠাত্ দৌড়ানো, হঠাত্ ঘোড়া ছোটানো, হঠাত্ থেমে যাওয়ার অসংখ্য শট।

ওফ্যল্স-এর সিনেমা শুধু গতিময়তার উপর অবশ্য নির্ভরশীল নয়, কিন্তু তাঁর রসবোধ এবং কিছুটি শীতল মানবতাবোধ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ হতে বাধ্য, এবং দীর্ঘ আলোচনা বিদ্বান দুর্জনের মতই পরিত্যাজ্য। এটুকু বলা যাক যে ছবির শেষ শটে তাঁর সব প্রবণতাকে সংহত করেছেন ম্যাক্স ওফ্যল্স, এবং সেই শটটিই শ্রেষ্ঠতম।

Saturday May 16, 2009 - 03:14pm (PDT) Permanent Link | 2 Comments

Add বল গো to your personalized My Yahoo! page:

Add to My Yahoo!RSS About My Yahoo! & RSS
1 - 5 of 178 First | < Prev | Next > | Last