
<rss version="2.0">
<channel>

<title><![CDATA[বল গো]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD</link>
<description><![CDATA[বাংলা ব্লগ। নার্সি-নাসির।]]></description>
<language>en-us</language>
<lastBuildDate>Fri, 28 Nov 2008 15:03:08 GMT</lastBuildDate>

<item>
<title><![CDATA[নাগিসা ওশিমার সিনেমা ২]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=379</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><strong><em>এই দিয়ে শেষ হচ্ছে নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উৎসবের বিবরণ</em></strong><br /><br />আগে যেসব ছবির উল্লেখ আছে সেগুলোতে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Nagisa_Oshima">ওশিমার</a> বামপন্থী মতাদর্শের প্রভাব আছে কম-বেশি, কিন্তু <a href="http://www.cinemathequeontario.ca/filmdetail.aspx?filmId=911">আশা-ভালবাসার শহর</a> আর <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Night_and_Fog_in_Japan">জাপানে রাত ও কুয়াশা</a> -- এই দুই ছবি প্রকাশ্যতই রাজনৈতিক। কোন ক্ষেত্রেই ফল তেমন সুখকর হয়নি। জাপানে রাত ও কুয়াশা তো মহা বিরক্তিকর, দুই ঘণ্টা ধরে কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড বামপন্থীর অবান্তর চুলোচুলি, এবং পরস্পরকে দোষারোপ তাদের আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য। আশা-ভালবাসার শহর তুলনায় ভাল, এমনকি, প্রথম তিন-চতুর্থাংশ অসাধারণ। দরিদ্র একটি ছেলে তার অসুস্থ মা আর বোকাটে বোনের সাথে বাস করছে -- টাকার জন্যে স্কুল ফাঁকি দিয়ে কখনো করছে জুতো পালিশ, কখনো পোষা পায়রাটি বিক্রী করছে এই আশায় যে পাখিটি সুযোগ পেলেই ফিরে আসবে। এই পায়রা বিক্রি করতে গিয়েই এক শিল্পপতির মেয়ের সাথে ছেলেটির পরিচয়, এ পরিচয় কিছুটা রোমান্সের দিকেও গড়ানো শুরু করেছিল ফিল্মের মাঝামাঝি এসে। কিন্তু শেষের দিকে, হা হতোস্মি, মনে হল <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/The_Communist_Manifesto">কমিউনিস্ট ইশতেহার</a> থেকে ওশিমা রিডিং পড়ছেন। এই যদি করবেন তাহলে ঘণ্টা দেড়েক সময় নষ্ট কেন করলেন সেটা সঙ্গত ভাবেই জিজ্ঞেস করতে হয়, কারণ, কমিউনিস্ট ইশতেহার পড়তে এতক্ষণ লাগেনা। <br /><br />অন্যদিকে, ওশিমা যৌনতা এবং হিংস্রতার সম্পর্ক ও সীমারেখা নিয়ে বেশ কিছু ছবি বানিয়েছেন। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত যে ছবি -- সেই <a style="font-style:italic;" href="http://www.imdb.com/title/tt0074102/">ইন্দ্রিয়-রাজ্য</a> আমি দেখতে পারিনি। দেখা ছবিগুলির মধ্যে <a style="font-style:italic;" href="http://www.imdb.com/title/tt0060486/">মধ্যহ্নে হিংস্রতা</a> এবং <a style="font-style:italic;" href="http://www.allmovie.com/cg/avg.dll?p=avg&amp;sql=1:15751">আবেগের সাম্রাজ্য</a><em></em> -- এই ধারার মধ্যে পড়ে। মধ্যাহ্নে হিংস্রতা এইজুকে নামক এক বহু-খুনীর কাহিনী, তবে কাহিনীটি কি তা খুব স্পষ্ট নয়, কারণ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে গল্প পেঁচিয়েছেন ওশিমা, আর খুব লম্বাও মনে হল ছবিটাকে। আবেগের সাম্রাজ্য কিন্তু অসাধারণ। জাপানের এক গ্রামে প্রেমে পড়ে তরুণ তয়োজি আর সেকি। সেকি কিন্তু বিবাহিত, তার স্বামী গিসাবুরো নামের এক প্রৌঢ় রিকশাচালক (এই রিকশা কলকাতার হাতে টানা রিকশা), তাদের দুটি বাচ্চাও আছে। প্রেমিকযুগল শেষ পর্যন্ত গিসাবুরোকে খুনই করে ফেলে শ্বাসরোধ করে -- কিন্তু এরপর গিসাবুরোর ভূত দেখা শুরু করে গ্রামশুদ্ধ সবাই, বিশেষত সেকি আর তয়োজি। আবেগের সাম্রাজ্য-এ ওশিমা তৈরি করেছেন বর্ষাঘন, তুষারমলিন রহস্যের পরিবেশ, পরিবেশ তৈরির ক্ষমতায় এই ছবির ওশিমা কেবল <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Akira_Kurosawa">আকিরা কুরোসাওয়া</a> এবং <a href="http://www.brightlightsfilm.com/22/mizoguchi.html">কেনজি মিজোগুচির</a> সাথেই তুলনীয়। এই তুলনা করতে গিসাবুরোর-ভূত প্রসঙ্গ সত্বেও হেসে ফেলছি, কারণ এই দুই শিরোমণি পরিচালককেই নাকি অত্যন্ত অপছন্দ করেন ওশিমা। <br /><br />কেন করেন, এই নিয়ে ওশিমা একটি ছবি করবেন কি?<br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Fri, 28 Nov 2008 15:03:08 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[নাগিসা ওশিমার সিনেমা ১]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=376</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><a href="http://www.filmlinc.com/nyff/nyff.html">নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উৎসবে</a> নতুন ছবির পাশাপাশি একটি রেট্রোস্পেকটিভ চলছিল। জাপানী পরিচালক <a href="http://www.sensesofcinema.com/contents/directors/04/oshima.html">নাগিসা ওশিমা</a>র এই রেট্রোস্পেকটিভের নাম ছিল <em>ইন দ্য রেল্ম অভ ওশিমা</em> -- বেশ কিছু ছবি দুসপ্তাহের বেশি ধরে দেখানো হল। আমি দেখলাম:<br /> <br /> <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Night_and_Fog_in_Japan">জাপানে রাত্রি ও কুয়াশা</a><br /> <a href="http://www.midnighteye.com/reviews/yunbogid.shtml">য়ুনবোগির ডায়েরি</a><br /> <a href="http://www.sarudama.com/movies/violenceatnoon.shtml">মধ্যাহ্নে হিংস্রতা</a><br /><a href="http://www.imdb.com/title/tt0052540/"> আশা-ভালবাসার শহর</a><br /><a href="http://www.imdb.com/title/tt0091498/"> ম্যাক্স, আমার ভালবাসা</a><br /><a href="http://www.imdb.com/title/tt0077132/"> আবেগের সাম্রাজ্য</a><br /><a href="http://www.imdb.com/title/tt0063169/"> তিন মাতালের কাহিনী</a><br /> <br /> এই ফিল্মগুলি নিয়ে অল্প-বিস্তর আলোচনা করার আগে আরেকটা জিনিস উল্লেখ করি। তালিকাটি তৈরি করতে গিয়ে বুঝলাম কিছু ছবির নাম ভুলে গেছি, মনে করবার জন্য <a href="http://www.imdb.com/name/nm0651915/">এই ওয়েব-পাতায়</a> গিয়ে অদ্ভুত একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। বাংলাদেশ নিয়ে ওশিমা তিন-তিনটি টেলি-ডকুমেন্টারী বানিয়েছিলেন -- জয় বাংলা (১৯৭২), সোনার বাংলা (১৯৭৬) এবং তৄতীয়টার ইংরেজী নাম পেলামনা  -- বেঙ্গল নো চিচি লামান (১৯৭৩)। এর কোনটাই রেট্রোস্পেকটিভে দেখানো হয়নি। অবাক হচ্ছি, কোনদিন শুনিনি এরকম কিছু, গুগল খোঁজ দিয়ে <a href="http://www.bangladeshlive.net/885991.html">এই ওয়েব-পাতাটি</a> অবশ্য পেলাম যেখানে ছবি তিনটির উল্লেখ আছে। <br /> <br /> মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। মোটের উপর, ওশিমার ছবি আমার তত ভাল লাগেনি, হয়ত জাপানী ফিল্মের কাছে প্রত্যাশা খুব বেশি বলেই। কুরোসাওয়া বা মিজোগুচির কথা বাদই দিলাম, <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Seijun_Suzuki">সেইজুন সুজুকি</a> বা <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Takeshi_Kitano">তাকেশি কিতানো</a>-র ছবির আমি বেশি ভক্ত ওশিমার তুলনায়। যেসব ছবি দেখলাম ওশিমার, তার মধ্যে </font><font size="4">একমাত্র </font><font size="4"><em>আবেগের সাম্রাজ্য</em>কেই দুর্দান্ত বলা যেতে পারে। <br /> <br /> <em>য়ুনবোগির ডায়েরি</em> তীক্ষ্ম শর্ট-ফিন্ম। স্বল্প দৈর্ঘ্যের বলেই বোধহয় <em>য়ুনবোগির ডায়েরি</em> ভাল লাগল, কারণ বড় ফিল্ম অকারণেই আরো বড় করবার প্রবণতা ওশিমার রয়েছে। ৬০-এর দশকের কোরিয়ার দারিদ্র্যের ছবি য়ুনবোগি নামের একটি ছোট ছেলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়েছে। কোরিয়ার ব্যাপারে ওশিমার বিশেষ </font><font size="4">আ</font><font size="4">গ্রহ, <em>তিন মাতালের কাহিনী</em>-র ঘটনাটি এরকম -- জাপানী তিন ছাত্র তাদের পরিচয়-পত্র হারিয়ে ফেলার পরে তাদেরকে কোরিয় অনুপ্রবেশকারী বলে সন্দেহ করতে থাকে পুলিশ। </font><font size="4">এটা </font><font size="4">স্যাটায়ার, </font><font size="4">আর </font><font size="4">স্যাটায়ার নয়, একেবারেই ফার্স হচ্ছে <em>ম্যাক্স, </em></font><font style="font-style:italic;" size="4">আমার</font><font size="4"><em> ভালবাসা</em>। ব্রিটিশ এক কূটনীতিক সন্দেহ করতে থাকে তার স্ত্রী প্রেম করে বেড়াচ্ছে অন্য কারো সাথে, দেখা গেল তার সন্দেহ সত্যি, তবে প্রেমিকটি ম্যাক্স নামক এক শিম্পাঞ্জী। উদ্ভট কাহিনী।  <br /> <br /> চলবে ...<br /> <br /> <br /> </font>]]></description>
<pubDate>Sat, 15 Nov 2008 02:48:22 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[বশিরের সাথে ওয়াল্টজ]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=375</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><a href="http://www.filmlinc.com/nyff/nyff.html">নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উৎসবের</a> দ্বিতীয় সপ্তাহে দেখলাম <a href="http://www.imdb.com/title/tt1185616/">বশিরের সাথে ওয়াল্টজ</a> -- অপূর্ব! ছবিটি <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Animation">এনিমেটেড</a>, আবার প্রামাণ্যধর্মী। ডকুমেন্টারী-তেলের সাথে এনিমেশন-জল সফল ভাবে মেশাতে পারাই দারুণ, কিন্তু বশিরের সাথে ওয়াল্টজ-এর অনেক গুণের এটা একটা মাত্র। ছবি শুরু হচ্ছে একটা দুঃস্বপ্নের দৃশ্য দিয়ে -- রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে এক দল হিংস্র কুকুর, অজানা-ভয়ংকর উদ্দেশ্যে। কুকুরদের ছুটে চলার সন্ত্রাসী ছন্দ, তার সাথে সম্পাদনার গতি, তার সাথে সংগীতের লয় -- অসাধারণ মিশিয়েছেন পরিচালক <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ari_Folman">আরি ফোলমান</a>। পুরো ছবিতেই আসলে একটা ছন্দ-সামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন, ছবিতে পশ্চিমা ধ্রুপদী সংগীত থেকে শুরু করে রক গান পর্যন্ত সব কিছু ব্যবহার করেছেন পরিচালক, কিন্তু কক্ষনো মনে হয়নি অপ্রয়োজনীয় কি সামঞ্জস্যহীন কালোয়াতি করছেন, সুপ্রযুক্ত মনে হয়েছে সবকিছুকেই। <br /><br />দুঃস্বপ্নটার কথা এক বন্ধু জানাচ্ছে ফোলমানকে, এটা জানা যায় স্বপ্নটা শেষ হলে। ইসরায়েলের একটি বারে বসে আছেন দুই বন্ধু, দুজনেই একসময় ইসরায়েলী সেনাবাহিনীতে সৈনিক ছিলেন, যুদ্ধে গেছেন। একজনের ক্ষেত্রে যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফল হচ্ছে পৌনঃপুনিক সেই শ্বাপদ-স্বপ্ন। কিন্তু ফোলমান, আমরা জানতে পারি, বিশ বছর আগে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/1982_Lebanon_War">১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে</a> তাঁর অভিজ্ঞতার কথা কিছুই মনে করতে পারছেননা। সন্দেহ হতে থাকে, ফোলমানের এবং আমাদেরও, এমন কোন ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে লেবাননে, যা থেকে স্মৄতি তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। বন্ধুর সাথে এই আলাপের পরে ফোলমান ঠিক করেন কি ঘটেছিল লেবাননে তা তাঁর জানতে হবে, কিন্তু আবছা এক স্মৄতি ছাড়া তাঁর আর কিছুই মনে পড়েনা -- এই স্মৄতিতে ফোলমান এবং তার কয়েকজন সৈনিক বন্ধু এক অদ্ভুত সমূদ্র থেকে উঠে আসছেন বৈরুতের উপকূলে। <br /><br />বাকি ছবিটা স্মৄতি উদ্ধারের কাহিনী। ফোলমান ওই যুদ্ধে তাঁর সহযোদ্ধাদের খুঁজে বের করেন, তাঁদের স্মৄতির সূত্র ধরে এগোতে-পেছোতে থাকেন। আস্তে আস্তে যুদ্ধের স্মৄতি -- অধিকাংশই নির্মম -- তাঁর মনে পড়তে থাকে। ফিল্মের একদন শেষ মুহূর্তে ফোলমানের সাথে আমরা মুখোমুখি হই অমানবিক সেই ঘটনার, যার ফলে ফোলমান স্মৄতিভ্রষ্ট হয়েছিলেন। এই ঘটনাটি নিয়ে এখানে আলাপের প্রয়োজন নেই, আগ্রহীরা <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Sabra_and_Shatila_massacre">এখান থেকে জেনে নিতে পারেন</a>। যেটা আলোচ্য, সেটা হল ফোলমান কতটা সততার, এবং কতটা ব্যক্তিত্বের সাথে বলেছেন তাঁর গল্প। যুদ্ধের কাহিনী বলতে গিয়ে এমনকি সৎ শিল্পীরাও প্রায়ই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পড়ে যান -- &quot;সবারই তো ভাই দোষ ছিল, আসুন সব ভুলে যাই&quot; -- এধরনের নৈতিক দাঁড়িপাল্লাগিরিতে পর্যবসিত হয় পুরো ব্যাপারটা। পরিচালক পাত্তাই দেননি এরকম চিন্তাভাবনাকে, সমূহ সাহসের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত গল্পটি বলে গেছেন। ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে নৈতিক এবং রাজনৈতিক সত্য,  উল্টোটা নয় -- একথা ভুলে যাওয়া কঠিন নয়, এই ফিল্ম মনে করিয়ে দিল।<br /><br /><a href="http://www.youtube.com/watch?v=fU7Q3_n-UWM">ফোলমানের ছোট সাক্ষাৎকার</a><br /><a href="http://www.youtube.com/watch?v=ylzO9vbEpPg">ছবির ট্রেইলার</a><br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Mon, 10 Nov 2008 02:10:28 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[হেমন্তের ছায়াময় উৎসব]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=374</link>
<description><![CDATA[<font size="4">মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এবং ইউরোপের কিছু অংশে ৩১-এ অক্টোবর <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Halloween">হ্যালোউইন</a> নামের একটি উৎব উদযাপিত হয়। মোটা দাগে এই উৎব এক ইউরোপীয় নবান্ন। হ্যালোউইনের সাথে ফসলের সম্পর্ক আজকাল অনতিস্পষ্ট, কিন্তু তারপরও উৎসবটিতে কুমড়োর <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Jack-o%27-lantern">একটা বিরাট ভূমিকা</a> আছে। এবং, হ্যালোউইনের রাতে বাচ্চারা দোরে দোরে গিয়ে চকলেট চেয়ে বেড়ায় -- ঠিক যে সময়টিতে বাংলায় গুড়ের নাড়ু নিয়ে টানাটানি চলছে। অন্য দিকে, <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Nobanno">নবান্নের</a> সাথে হ্যালোউইনের যেসব পার্থক্য আছে, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে হ্যালোউইনের সাথে ভূত-প্রেত-ডাইনী-পেত্নী প্রভৄতির সম্পর্ক। নিয়ম হচ্ছে, হ্যালোউইনের রাতে সবাই নানান ধরনের ছদ্মবেশ পরে ঘুরবে, এবং এসব বেশ <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Count_Dracula">ড্রাকুলা</a> বা এজাতীয় ভীতিপ্রদ চরিত্রের হওয়াই বাঞ্ছনীয়। <br /><br />হ্যালোউইন উপলক্ষে আমি একটা কুমড়ো কিনেছিলাম, এবং এক প্যাকেট চকলেট -- কিন্তু পুরোটাই জলে গেছে, কারণ একটা পার্টি ছিল রাতে। ছদ্মবেশও কিনিনি, যে জন্য সকাল বেলাতেই লজ্জায় পড়তে হল। একটা লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, শূকরের বেশ পরা এক কুকুর পাশে এসে লেজ নাড়তে লাগল। এ দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে এক বন্ধুর সাথে বেরোলাম হ্যালোউইনের পোষাক কেনার জন্য, কিন্তু যে দোকানটায় ঢুকতে চেয়েছিলাম তার সামনে মাইল চারেক লম্বা এক লাইন দেখে পরে সাধারণ একটা দোকান থেকে প্রচণ্ড ঢোলা এবং অতি অসৃজনশীল এক <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Batman">ব্যাটম্যানের</a> পোষাক কিনে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। <br /><br />আটটার দিকে পার্টির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে সম্পূর্ণ গ্যাঁড়াকলে পড়লাম। আমার যাওয়া দরকার নিউইয়র্কের চতুর্থ অ্যাভিনিউতে, কিন্তু ষষ্ঠ অ্যাভিনিউতে পৌঁছে দেখি লাখ লাখ ভূত-প্রেতের অতি দীর্ঘ মিছিল ডাইনোসোরের লেজের মত যাচ্ছে, সে রাস্তা পার হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। অবশেষে অতি কষ্টে রাত দশটার সময় পার্টিতে পৌঁছে হাস্যকর ব্যাটম্যান-বেশের শোক কিছুটা ভুলতে পারলাম, কারণ যারা সাধারণ পোষাক পরে এসেছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। পার্টিতে পুলিশবেশী কিছু লোক ঘোরাঘুরি করছে, বেপোষাকী কাউকে দেখলেই কোথায় যেন তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এদের পেছন পেছন গিয়ে পৌঁছলাম বাড়ির নিচের বেইসমেন্টে, সেখানে একটা দরজার সামনে তিরতির করে কাঁপছে একটা নীল বাতি, অনেকটা হরর ফিল্মের মত। ভেতরে ঢুকে দেখি রীতিমত একটা থানার মত, বেশ কিছু পুলিশ, আর একজন দারোগা মত লোক জেরা করছে এই &quot;অপরাধী&quot;-দের। শাস্তিস্বরূপ তাদের পান করতে হচ্ছে গুচ্ছের <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Vodka">ভদকা</a>, তারপর তাদের পাশের একটা প্রায়ান্ধকার ঘরে নিয়ে গিয়ে সার্চ করা হচ্ছে, সেখানে ভুতুড়ে হলুদ আলো জ্বালানো একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে। <br /><br />যাকে বলা হয় <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Gothic_fiction">গথিক</a>, এই পুরো ব্যাপারটাকে মোটা দাগে বলা যায় তাই। গথিক সংবেদনশীলতা বলতে কি বোঝায় তা সবসময় খুব পরিষ্কার নয় -- কিন্তু সাধারণভাবে তীব্র ভয়, রহস্য, অতিপ্রাকৃত এবং অযৌক্তিক অভিজ্ঞতার সাথে গথিক মনোভাব সংশ্লিষ্ট।পশ্চিমা চিন্তার এই বিশিষ্ট ধারণা আমাদের দিয়েছে ড্রাকুলা-<a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Frankenstein">ফ্র্যাংকেনস্টাইন</a>, <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/The_Hound_of_the_Baskervilles">অসাধারণ সব রহস্যকাহিনী</a>, ভয়ের গল্প, <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Alfred_Hitchcock">হিচককের সিনেমা</a>। আমার প্রশ্ন হল, আমাদের এলাকায় এই ব্যাপারটা প্রায় অনুপস্থিত কেন? গথিক সাহিত্যের বিভিন্ন প্রভাবের মধ্যে মধ্যযুগ একটি, সেই মধ্যযুগ তো আমাদেরও আছে -- কিন্তু <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Misir_Ali">মিসির আলি</a> ছাড়া কই তো তেমন কিছু চোখে পড়েনা। হয়ত আমাদের মনোভঙ্গি এসব ব্যাপারে একটু বেশি সিরিয়াস। <br /><br />পার্টি থেকে ফেরার পথে ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি বড় একটা বিজ্ঞাপন থেকে কে যেন এক লোকের ছবির বাম চোখ তুলে নিয়েছে। ট্রেন আসার ঠিক আগে লক্ষ্য করলাম, আরেকটি বিজ্ঞাপনের আরেক লোকের ছবির বাম চোখের উপর এই চোখটি সাঁটা। <br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Wed, 05 Nov 2008 03:04:20 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[প্রথম দিন]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=373</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><a href="http://www.filmlinc.com/nyff/nyff.html">নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে</a> প্রতিটি ছবি শুরু হওয়ার আগে মিনিট খানেকের একটা সূচনা ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। ফিল্ম বিষয়ে পর পর বেশ কয়েকটি উদ্ধৄতির পর &quot;নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে আপনাকে স্বাগতম&quot; -- এই বলে ভিডিওটি শেষ। উদ্ধৄতিগুলো বিখ্যাত ক&#39;জন পরিচালকের, মোটামুটি ক্রমানুসারে তাঁরা হলেন:<br /><br /><span style="color:rgb(0, 0, 255);">জাঁ লুক গদার</span> (প্রথম উদ্ধৄতি)<br />স্টিভেন স্পীলবার্গ<br /><span style="color:rgb(0, 0, 255);">জাঁ ককতো</span><br />চার্লি চ্যাপলিন<br />ডেভিড লীন<br /><span style="color:rgb(0, 0, 255);">ফ্রাসোঁয়া ত্রুফো</span><br />স্ট্যানলি কুব্রিক<br /><span style="color:rgb(0, 0, 255);">জাঁ লুক গদার</span> (শেষ উদ্ধৄতি)<br /><br />যাদের নাম কালো হরফে লেখা, তারা সবাই মার্কিন পরিচালক। সেটা বিস্ময়কর নয়, যেহেতু উৎসবটি হচ্ছেই সেখানে। কিন্তু বাকি সবাই ফরাসী। <br /><br />নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উৎসবে উদ্বোধনী ছবিটির নাম, ইংরেজীতে, <a href="http://www.imdb.com/title/tt1068646/">দ্য ক্লাস</a>। ছবিটি, না বললেও চলে বোধহয়, ফ্রান্সের। উদ্বোধনী ভিডিও-র ফরাসী সুবাস যে কাকতালীয় নয়, পুরো উৎসবেই তার প্রমাণ মিলেছে। অনেক ফরাসী ছবি ছাড়াও অন্যদেশের ছবি গুলোও অনেক সময় ফরাসী প্রযোজনায় তৈরি (শ্যোগা), অথবা ফিল্মের অংশবিশেষ ফ্রান্সের পটভূমিকায় (যেমন হং-সাং সু-র <a href="http://www.imdb.com/title/tt1176096/">বিরক্তিকর কোরীয় ছবিটি</a>)। <br /><br />দ্য ক্লাসের প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। ফ্রাঁসোয়া মারিন প্যারিসের একটি স্কুলে ফরাসী ভাষা পড়ান। ক্লাসের অনেক ছাত্র-ছাত্রীই অন্য দেশ থাকা অভিবাসী, বা তাদের সন্তান। কেউ আরব, কেউ আফ্রিকান, কেউ বা উভয়ই (যেমন মিশর থেকে আসা একটি ছেলে), কেউবা চীনের। মারিনের ক্লাসে তাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা, ছেলেমেয়েদের মধ্যে বন্ধুত্ব, তুচ্ছ ঝগড়া, মারিনের সাথে কখনও তাদের ভাল বোঝাপড়া, কখনও চাপা টেনশন -- এই প্রায় পুরো ছবিটা জুড়ে। গল্প বলার দিকে পরিচালক <a href="http://www.imdb.com/name/nm0134559/">কান্তেত</a>-এর তেমন আগ্রহ নেই, কিন্তু যেটাতে তাঁর আগ্রহ, ক্লাসের অভিজ্ঞতার সমস্তটা তুলে ধরা, তাতে সফল হয়েছেন অসাধারণ ভাবে। মারিনের প্রতি খুমবা নামের একটি মেয়ের চাপা ক্ষোভ এক পর্যায়ে বিক্ষোভে পরিণত হয়, কিন্তু এই ঘটনাটি নিয়ে পরিচালক কচলা-কচলি করেননি। ১৩-১৪ বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে তীব্র আবেগ কিছুটা অকারণেই যেভাবে আসে-যায়, সেভাবেই ঘটনাটিকে বয়ে যেতে দিয়েছেন। আবার ছাত্র-ছাত্রীদের সব ঝগড়াই তুচ্ছ নয়, যেমন মিশরের ছেলেটির সাথে মালির একটি ছেলের তর্কে আফ্রিকার আরব এবং আরব-নয় দেশগুলির মধ্যে একটা দ্বন্দের আভাস পাওয়া গেল, অন্যদিকে ছোট ছোট কিছু ঘটনায় এও বোঝা গেল যে ফরাসী সংস্কৄতির সাথে অনেক অভিবাসী ছাত্র-ছাত্রীর সম্পর্কটি সমস্যাসংকুল। <br /><br />চমৎকার এই ছবিটিতে মারিনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Fran%C3%A7ois_B%C3%A9gaudeau">ফ্রাঁসোয়া বেগাদু</a>, যার লেখা একটি উপন্যাস থেকে ছবিটি তৈরি। বেগাদু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উপন্যাসটি লিখেছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও সব প্যারিসের সত্যিকারের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী, তাদের অনেকে যখন মঞ্চে উঠে এল ছবি শুরুর ঠিক আগে, তখন হাততালির অভাব হয়নি। <br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Fri, 24 Oct 2008 05:24:48 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[যন্ত্রশিল্পীর চিত্রকলা]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=372</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><em>টরোন্টো, কানাডা থেকে <strong>ইশতিয়াক আহমেদ</strong></em><br /><br />চিত্র বা অংকন শিল্পে আমার খানিকটা উৎসাহ থাকলেও, ছোটবেলায় স্কুলে দুয়েক বার ছাড়া আমি কখনও রং-তুলি হাতে নিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। আঁকার হাত দূরে থাক যার হাতের লেখা পড়াটাই অনেকের মতে প্রায় দুষ্কর, তার পক্ষে চিত্রশিল্পী হবার স্বপ্ন উচ্চাশাই বটে। <br /><br />তবে জীবনে কিছু উপলক্ষ এসেছে যখন নিজেকে কিঞ্চিত চিত্রশিল্পী বলে মনে হয়েছিল। প্রথম বার, <a href="http://www.buet.ac.bd/">বুয়েটের</a> প্রথম সেমিস্টারের টার্ম ফাইনাল <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Programming">প্রোগ্রামিং</a> অ্যাসাইনমেন্টের সময় আমার বানানো সিস্টেমের শুভেচ্ছা স্ক্রীনের জন্য অনেক অংক কষে কষে নানা রংয়ের সংমিশ্রণে একটা কিছু বানালাম। পরে আমার সেই চিত্রকর্ম দেখে ম্যাডাম হাসতে হাসতে চেয়ার উল্টে পড়ার দশা! আমি তো হতভম্ব! এত হাসির কি আছে, ভালই তো, এমন কি খারাপ হয়েছে। পরে অবশ্য আরো বন্ধুদের অভিমত নিয়ে বুঝতে পারলাম কি এক খানি &quot;জিনিস&quot; হয়েছিল সেটা। <br /><br />যাই হোক, চতুর্থ বর্ষে এসে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Computer_graphics">কম্পিউটার গ্রাফিক্স</a> ক্লাসের অভিজ্ঞতা এতটা খারাপ ছিলনা। কারণ, কি দেখাতে হবে সেটার ছবি দেয়া থাকত। আমাদের কাজ ছিল শুধু গাণিতিক হিসাব-নিকাশ করে এটাকে স্ক্রীনে দেখানো। আরো পরে, <a href="http://www.codegear.com/products/jbuilder">জে-বিল্ডার</a> বা <a href="http://msdn.microsoft.com/en-us/vstudio/default.aspx">ভিস্যুয়াল সি/বেসিক</a> এ কাজ করতে গিয়ে দেখি কোডিং না করেই অনেক কিছু করা সম্ভব। টেনে টেনে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Radio_button_%28computing%29">বাটন,</a> চেকবক্স বসিয়ে প্রোগ্রামিং করাটা বেশ মজাই লাগল। বাটন-এ ছায়া ফেলে ত্রিমাত্রিক ভাব আনা বা ক্লিক করলে পরে বাটনকে স্ক্রীনের ভিতর দিকে ঠেলে দেয়া, ইত্যাদি ইফেক্ট নিয়ে আর নিজেকে চিন্তা করতে হয়না দেখে পরম স্বস্তি অনুভব করলাম। <br /><br />আর আজকাল নিজের মধ্যে চিত্রকর ভাবটা আবার জেগে উঠেছে। কাজের ক্ষেত্রে আমাদের বড় জটিল সব <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Business_Process_Modeling_Notation">ব্যবসাপ্রণালী নমুনায়ন</a>কে বিভিন্ন সব চিত্র দিয়ে প্রকাশ করতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হতে থাকে চিত্রগুলো যেন কোন পথিকের (এক্ষেত্রে সিস্টেমের ব্যবহারকারীর) <a href="http://www.visualcase.com/kbase/sample_sequence_diagram.htm">পথ চলার গল্প বলে</a>। <br /><br />সফ্টওয়্যার প্রযুক্তির গবেষণা জগতে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Visual_programming_language">ভিস্যুয়াল বা গ্রাফিক্যাল প্রোগ্রামিং</a> নিয়ে কাজ হচ্ছে বেশ কয়েক দশক হতে চলল। মূল ধারণাটি হল -- প্রোগ্রামিং-এর <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Logic">লজিক</a> কে বিভিন্ন চিহ্ন ও চিত্র দিয়ে প্রকাশ করা এবং সেটিকে সয়ংক্রিয় ভাবে কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় এমন <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Source_code">কোড</a>-এ পরিণত করা। সেই অর্থে ভিস্যুয়াল বেসিক বা জে বিল্ডার ইত্যাদিকে এর আওতায় ফেলা যায়না। ওগুলো মূলত ব্যবহারকারীর জন্য সমৄদ্ধ <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/User_interface">ইন্টারফেস</a> বানানোতে সাহায্য করে থাকে, কিন্তু সিস্টেমের মূল লজিক কিন্তু হাতেই লিখতে হয়। আগেই বলেছি, ইদানিং ভিস্যুয়াল প্রোগ্রামিং-এর কিছু অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হচ্ছে। এসব করতে গিয়েই বুঝলাম, এমন দিন খুব দূরে নয় যখন একজন অপ্রোগ্রামার, হয়ত একজন ব্যবসা প্রশাসন পেশাদার, টেনে টেনে আঁকি ঝুঁকি করে হয়ত কোম্পানীর জন্য জটিল সব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে ফেলবে। আই.বি.এম <a href="http://www-01.ibm.com/software/rational/">রেশন্যাল মডেল</a>-এর কিংবা ওরাকল <a href="http://www.oracle.com/technologies/bpm/index.html">বিপিএম</a> বা বিপিএ-র মত সফ্টওয়্যার গুলো দিনে দিনে এই দিকেই যাচ্ছে। ব্যবসা প্রণালী নমুনায়ন এবং এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের মধ্যে যে চিরন্তন দূরত্ব সেটা দূর করাই এসব সফটওয়্যারের মূল উদ্দেশ্য। কম্পানী গুলোও তাই চায়। এটা করলে তাদের পণ্য বাজারে বাজারে পাঠাতে যে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Time_to_market">সময় ব্যয় ব্যয় হত</a> তা অনেকাংশে কমে যাবে। একটা ব্যাপার স্পষ্ট, সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পাশাপাশি ব্যবসা প্রশাসনে অভিজ্ঞ লোকজনের কদর এতে করে নির্ঘাত বেড়ে যাবে। <br /><br /><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Deutsch_Limit">ডয়েশ লিমিটের</a> মত পুরোনো কিছু সমস্যা অবশ্য এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে মোটের উপর, আঁকা আঁকির নতুন এই প্রচেষ্টা আপাতত বেশ উপভোগ করছি। <a style="font-style:italic;" href="http://en.wikipedia.org/wiki/A_picture_is_worth_a_thousand_words">একটি ছবি হাজার কথার সমান</a><em></em> -- খাঁটি কথা, আবারো বুঝতে পারছি!<br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Tue, 21 Oct 2008 03:44:22 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[গত শনিবার]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=369</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><a href="http://www.imdb.com/title/tt0375865/">জাগো হুয়া সভেরা</a>ই ছিল গত শনিবারে দেখা শ্রেষ্ঠ ছবি, একথা নিঃসন্দেহে বলতে পারতাম, যদি না রাতে <em>টোকিও সোনাটা</em> দেখার সৌভাগ্য না হত। তবে তার আগে দিনের প্রথম ছবিটার কথা বলি। <br /><br /><a href="http://www.newyorker.com/arts/reviews/film/chouga_omirbaev">শ্যোগা</a><br />শ্যোগা হচ্ছে কাজাখ পরিচালক <a href="http://www.filmref.com/directors/dirpages/omirbaev.html">দারেজান ওমিরবায়েভের</a> নতুন ছবি। এর আগে আমি <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Kazakhstan">কাজাখস্তানের</a> কোন ছবি দেখিনি, এবং দেশটি সম্বন্ধে তেমন কিছু জানতামও না। কাজাখস্তানের  লোকজন দেখতে কেমন, কি ভাষায় কথা বলে, কি খায়, কেমন বাড়িতে থাকে -- কিছুই না। একটা ছবি দেখে এসব ব্যাপারে দিব্যদৃষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে একটা ধারনা পাওয়া গেল। দেশটিতে অনেক নব্য ধনী, মূলত প্রচুর <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Kazakhstan#Economy">পেট্রোলিয়াম-সম্পদের বদান্যে,</a> এবং সর্বকালেই উঠতি ধনিক শ্রেণীর মধ্যে যে সাংস্কৄতিক ছ্যাবলামি দেখা যায় এদেশটিতেও তা ঘটেছে -- এই তথ্যটুকুও ছবিটি থেকে মিলল। কাহিনীটি প্রেম ও তার ব্যর্থতার (শ্যোগা নামে একটি মেয়ের), এবং এ গল্প বলা হয়েছে কাজাখস্তানের নতুন সামাজিক প্রেক্ষাপটে। আইডিয়া খারাপ নয়, কিন্তু ছবিটা তত সুবিধার নয়, বিশেষত শেষাংশটা যাচ্ছেতাই। গল্পের কাঠামোটা তলস্তয়ের <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Anna_Karenina">আন্না কারেনিনা</a> থেকে নেয়া, কিন্তু ওমিরবায়েভের মধ্যে না আছে তলস্তয়-সুলভ নৈতিক তীব্রতা, আবার না পেরেছেন কাহিনীটাকে নিজের মনোভঙ্গির সাথে পুরোপুরি মিলিয়ে নিতে। । তবে ছবিটা আরেকবার, বা আরো একশবার দেখতে আমার তেমন আপত্তি নেই, কারণ ... ইয়ে, ছবির নায়িকা। এ ব্যাপারে আর কথা নয়। <br /><br /><a href="http://www.imdb.com/title/tt0938341/">টোকিও সোনাটা</a><br /><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Kiyoshi_Kurosawa">কিয়োশি কুরোসাওয়ার</a> ছবি একটা আগেও দেখেছিলাম, <em>কিউর</em> নামে, এবং সেটা নিয়ে লিখেছিলাম <a href="http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=92">এই ব্লগটি</a>। নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভালে তাঁর ছবি টোকিও সোনাটা দেখার ফল হল দুটি। এক -- কুরোসাওয়া আমার মহৎ পরিচালকদের তালিকায় ঢুকে গেলেন। এবং তিন -- মার্কিন, ফরাসী এবং ইতালীয় সিনেমার কথা ভুলে না গিয়েও আমার এখন ধারণা -- আকিরা কুরোসাওয়া, ওজু, মিজোগুচি, সুজুকি, ওশিমা, এবং কিরোশি কুরোসাওয়ার জাপানই চলচ্চিত্র শিল্পের রাজধানী। <br /><br />জাপানী একটি পরিবার কিভাবে ধাপে ধাপে ধ্বসে পড়ছে পরিবারের কর্তা চাকরি হারাবার পরে, তার মর্মান্তিক,  কবিতাভ, সাংগীতিক কাহিনী বলেছেন কুরোসাওয়া। <a href="http://www.indiewire.com/people/int_Kurosawa_Kiyosh_010801.html">কিউরের</a> তীব্র ভয়ের আবহটা এখানেও আছে, কিন্তু তার সাথে যোগ হয়েছে অসাধারণ রসবোধ এবং পর্যবেক্ষণ শক্তি। এবং, ছবির শেষাংশে, অবিরাম হতাশাবোধের পরে, একটু আশার ছোঁয়া। এই শেষাংশটিই হয়ত ছবির দুর্বলতাম অংশ, কিন্তু তারপরও স্মরণীয়। ছবির একদম শেষে পরিবারটির ছোট ছেলে বাজাচ্ছে <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Claude_Debussy">ক্লদ দেবুসির</a> সবচেয়ে <a href="http://www.youtube.com/watch?v=BzeCUlZz5aE">বিখ্যাত সোনাটা</a>। এই সোনাটার পরই ছবিটি শেষ করতে পারতেন হয়ত কুরোসাওয়া, কিন্তু অপেক্ষা করলেন বাবার এগিয়ে এসে ছেলের মাথায় হাত রাখবার জন্য, এবং তখন সিনেমা হল ফেটে পড়ল করতালিতে। <br /><br />ক্লদ দেবুসি ১ : কিরোশি কুরোসাওয়া ১<br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Thu, 16 Oct 2008 04:13:44 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[নূতন, পুরাতন]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=359</link>
<description><![CDATA[<font size="4">মেঘনার জেলেদের নিয়ে ১৯৫৮ সালে <a href="http://movies.nytimes.com/movie/229260/Jago-Hua-Savera/overview">একটি ছবি</a> বানিয়েছিলেন <a href="http://www.imdb.com/name/nm1420608/bio">এ জে কারদার</a> নামে এক পশ্চিম পাকিস্তানী পরিচালক। ছবিটি পরে একরকম হারিয়ে যায়, ছবিটির নাম অনেকে জানলেও দেখেছেন এমন লোক কম। ফরাসী এক চলচ্চিত্র সংগ্রাহকের কাছ থেকে একটি কপি অনেকদিন পরে এই গত বছর আবিষ্কার হওয়ার পরে বেশ একটু সাড়া পড়ে গিয়েছে, বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হচ্ছে হারিয়ে পাওয়া অসাধারণ এই বাস্তবধর্মী ছবি। ছবিটির নাম দ্য ডে শ্যাল ডন (ভোর হবে), আরেকটা নাম <a href="http://www.imdb.com/title/tt0375865/">জাগো হুয়া সভেরা</a> (অনুমান করেছিলাম, এবং পরে নিশ্চিত হলাম, এই নামটি উর্দু)। এটুকুই জানতাম গতকাল <a href="http://www.filmlinc.com/nyff/program/special/thedayshalldawn.html">নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি</a> দেখবার আগে। <br />  <br />  ছবিটি শুরু হচ্ছে এমন এক শটে, যাকে মহাকাব্যিক না বলে কোন উপায় নেই -- মেঘনার সমুদ্রসম জলে ভেসে আছে অসংখ্য সাদা পাল তোলা নৌকা। অসাধারণ এই শটের পাশাপাশি ধীরে ধীরে গান ভেসে আসল এবং সেই গানে অত্যন্ত অবাক হয়ে যা বোঝার চেষ্টা করছি কিছুক্ষণ পরে ছবির চরিত্রগুলির মধ্যে কথাবার্তা শুরু হলে সেটি স্পষ্ট হল। মেঘনার হতদরিদ্র, অশিক্ষিত জেলেদের নিয়ে এই ছবিটি, বললে বিশ্বাস করা শক্ত, বাংলায় নয়! বাংলার বহুভাষাবিদ জেলে কাসেম, গঞ্জু প্রভৃতিকে নিজেদের মধ্যে রীতিরকম উর্দুতে কথাবার্তা বলতে দেখে চমৎকৃত হলাম। <em></em> &quot;</font><font size="4">বহুভাষাবিদ&quot; </font><font size="4">বলার কারণ আছে, কারণ উর্দু এদের প্রধান ভাষা হলেও মুড়ির মধ্যে কাঁকরের মত মাঝে মাঝে &quot;বাবা দুটো পয়সা দাও&quot; ইত্যাদি কিছু বাংলা বাক্যও পাওয়া গেল তাদের আলাপচারিতার মধ্যে। কেয়া বাৎ!<br />  <br />  এই ব্যাপারটায় আমি এতটা বিরক্ত হতাম না, যদি ছবিটা অন্যান্য অনেক দিক থেকে সত্যিই অসাধারণ না হত। এই এক জায়গায় এমন এক গুবলেট পাকিয়েছেন কারদার ও তার দল যে ছবিটির পর আলোচনা-পর্বে এক পাকিস্তানিই-হবেন দর্শকের &quot;মাস্টারপীস, মাস্টারপীস&quot; চিৎকার সত্বেও এছবি তা নয়। বাস্তবধর্মী ধারার ছবিতে এই ভুল ক্ষমাহীন, এবং ১৯৫২+৬ সালে যে দৃষ্টির আশ্চর্য় অস্বচ্ছতা প্রকাশ পেয়েছে এখানে, সেটি দেখলে অখণ্ড পাকিস্তানের নশ্বরতার ব্যাপারটি বুঝতে মোটেও কষ্ট হয়না। <br />  <br />  যাহোক, ছবিটার প্রাপ্য প্রশংসা দেয়া দরকার। চাঁদপুরের এক গ্রামে ছবিটি তোলা হয়েছে, এবং ডকুমেন্টারী সততায় বাংলার গ্রামের (এবং গঞ্জেরও) স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। ছেঁড়া গেঞ্জী পরা জেলে, ধুতি পরা হিন্দু, টুপি পরা মুসলমান, দড়ি ছেঁড়া গরু, ঘেয়ো কুকুর, তদ্রুপ বিড়াল, ন্যাংটা বালক, ভাঙা সাংকি, মাছের বাজারের পাইকার, জোঁকের-তেল-গণ্ডারের-দাঁত বিক্রেতা  -- বাংলার এক বিস্ময়কর বিশ্বকোষ এই ছবিতে। গ্রামের ক্ষমাহীন দারিদ্র্যের বিপরীতে মেঘনার তুলনাহীন রূপ এই ছবির আরেক শক্তি। গল্পটিও শক্তিশালী -- মেঘনা, এবং মেঘনার ইজারা নেয়া লাল মিঞা -- এই দুই প্রতিবন্ধকতার সাথে যুদ্ধ করে জেলেদের বেঁচে থাকার গল্প। আরো যারা জানতে চান, তাঁরা দয়া করে <a style="font-style:italic;" href="http://en.wikipedia.org/wiki/Manik_Bandopadhyay">পদ্মা নদীর মাঝি</a><em></em> পড়ুন। সত্যি! মানিকের উপন্যাস থেকেই গল্পটি নেয়া হয়েছে, যদিও সেটা স্বীকার করা হয়নি, এবং সংগত এই প্রশ্নটি সিনেমার পরে এক দর্শক উত্থাপনও করলেন। এ ব্যাপারে <em>দুটি</em> মন্তব্য। এক, আমার ধারণা এটা অসততা নয়, ওই আমলে  &quot;মানিক বন্দোপাধ্যায়&quot; নামক ভারতীয় লেখকের নামটি ফিল্ম-বানিয়েরা আনতে চাচ্ছিলেন না। দুই, গল্পটি পদ্মা নদীর মাঝি থেকে আসলেও কারদারের মনোভঙ্গী ঠিক মানিক-সুলভ নয় -- বরং, সত্যজিৎ এবং মানিককে যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে তৈরি এই ছবির সংবেদনশীলতা। তিন, পদ্মা নদীর মাঝি-তে কুবেরের স্ত্রীর নাম মালা, আর শালীর নাম কপিলা। জাগো হুয়া সাভেরাতে সব চরিত্রের নামই পরিববর্তন করা হয়েছে (চরিত্রেরা বেশির ভাগই মুসলিম), শুধু শালীর নাম -- <em>মালা</em>! এই ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না। হাহাহা!<br />  <br />  হাহাহাহা...<br />  <br />  </font>]]></description>
<pubDate>Mon, 13 Oct 2008 01:43:01 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[কোথায় পাব তারে]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=357</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><a href="http://www.filmlinc.com/nyff/nyff.html">নিউ ইয়র্ক ফিল্ম উৎসব</a> শুরু হয়েছে। &quot;শুরু হয়েছে&quot; বললে অবশ্য ভুল হবে, সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখ থেকে চলছে। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম দেখা ফিল্মগুলোর ব্যাপারে কি ভাবছি তা টুকে রাখব প্রতিদিন, মাঝে মাঝে ব্লগ লিখব। হা হতোস্মি - এমন ক্লান্ত প্রতিদিন ছবি দেখে দেখে যে তা আর হয়ে ওঠেনি। এটা মনে করতে পারছি যে ছবি দেখতে দেখতে প্রায়ই মনে করেছি, এটা লিখতে রাখতে হবে -- কিন্তু কি যে লিখে রাখতে হবে তা আর মনে করতে পারছিনা তেমন। <br /><br />আসলে বহু কিছু জমে গেছে লেখার। প্রথম দিনের খুব-ভাল ছবি <a href="http://www.imdb.com/title/tt1068646/">দ্য ক্লাস</a>, তার পরের দিন বিচিত্র এক আলোচনা সভা, <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Nagisa_Oshima">নাগিসা ওসিমার</a> প্রচণ্ড মিশ্র মানের ছবির রেট্রোস্পেকটিভ, দেড় খানা মাস্টার পীস (এক, <a href="http://waltzwithbashir.com/">বশিরের সাথে ওয়াল্টজ</a>; আর বাকি অর্ধেক অলিভার আসায়াসের <a href="http://www.filmlinc.com/nyff/program/films/summerhours.html">গ্রীষ্মের প্রহর</a>), পোল পরিচালক <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Jerzy_Skolimowski">স্কোলিমোস্কির</a> অদ্ভুত আত্মপ্রচার -- আরও সব বিচিত্র অভিজ্ঞতা -- আর্জেন্টাইন একটা ছবি দেখব কি দেখবনা করতে করতে ঠুকে পড়ে দেখা পরিচালককে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন অতুলনীয় <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Pedro_Almod%C3%B3var">পেদ্রো আলমোদোভার</a>, ছবিটি দেখার সিদ্ধান্ত নেয়ায় নিজের পিঠ চাপড়ে দেখা শুরু করে দেখি মোটেই ভাল লাগছে না। <br /><br />গুছিয়ে গুছিয়ে লেখা দরকার, আর অলসতা নয়। এই করিনু পণ। <br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Thu, 09 Oct 2008 02:40:58 GMT</pubDate>
</item>

<item>
<title><![CDATA[জইন্যা]]></title>
<link>http://blog.360.yahoo.com/blog-TfJh_igic6vMEzVvLhCD?p=356</link>
<description><![CDATA[<font size="4"><em>টরোন্টো, কানাডা থেকে <strong>ইশতিয়াক আহমেদ</strong></em><br /><br />আমাদের পরিবারে গত কয়েকবছর ধরে <strong>জইন্যা</strong>র (জনি-কে আদর করা ডাকা) জন্য প্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থায়ী বাসিন্দাদের কথা নাহয় বাদ দিলাম, সাময়িক সদস্যরাও জনি-ভক্ত হয়ে পড়েন, মাত্র অল্প কিছুদিন আমাদের বাড়িতে আতিথ্যগ্রহণ করলে পরেই। বছর খানেক আগের কথা। দেশ থেকে তিন সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে বড় চাচা সবে ফেরত এসেছেন। ছুটি কেমন হল জানতে চাইলাম। জবাবের বেশ বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল জনির গল্প। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো একটা কুকুর কিভাবে আস্তে আস্তে একটি পরিবারের অতি কাছের একজন হয়ে ওঠে, সেটা খুব কাছ থেকে দেখতে পেলাম। <br /><br />ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত কুকুরদের আমি খুব সমীহ করে চলি। শুরুতে জনির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত ঈদে বাড়িতে গিয়ে সদর দরজা থেকে উঠোন সর্বত্র জনির আত্মবিশ্বাসী বিচরণ। দাদীকে দেখলাম নিজে কি খেয়েছেন তা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই, আদরের জইন্যার জন্য কিছু খাবার অবশিষ্ট রাখা চাই। বাড়ির অন্য সবার জনির ব্যাপারে আদিখ্যেতা দেখে আমার মনোভাব খুব একটা প্রকাশ করলাম না। </font><font size="4">দু</font><font size="4">-একদিন যেতে না যেতেই দেখলাম জনি-প্রিয়তা আমাকেও ধীরে ধীরে পেয়ে বসেছে। দরজায় ঢোকার মুখেই জনিকে লেপটি দিয়ে বসে না থাকতে দেখলে মনে হত কিছু একটা নেই। স্বভাবে খুবই নিরীহ, গোবেচারা টাইপের জনি অবশ্য প্রয়োজনে বেশ ভয়ঙ্কর রূপ নিত, বিশেষ করে যখন দেখতো বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কোন লোক বা অন্য কোন কুকুর আনাগোনা করছে। আমাদের দারোয়ান বিদেয় করে দেয়া হয়েছে প্রায় মাস দুয়েক। সেই থেকে জনি বেশ আস্থার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে এসেছে। <br /><br />পৌরসভা বেওয়ারিশ কুকুর নিধন অভিযান শুরু করেছে। এদিকে জনির দেখা নেই কয়েকদিন হতে চলল। গলায় ফিতে ছাড়া কুকুর দেখামাত্র গুলি করা হচ্ছে। আলস্য, উদাসীনতা সব মিলিয়ে জনির জন্য এই ছোট কাজটি করা হয়নি! ইতোমধ্যে জনি ফিরে আসার জন্য আমার দু-বোন ৫০ টাকা দান করার মানত করেছে। <br /><br />প্রতিদিনকার রুটিন অনুযায়ী আজ বাড়িতে ফোন দিলাম। ফোন ধরেই বুঝলাম মার খুব মন খারাপ। গলাটা কেমন যেন ভেজা শোনালো। মা জানালো -- আজ সকালে কেউ একজন জনির খোঁজ এনেছে। দেখেছে পৌরসভার ট্রাকে অনেক গুলো বেওয়ারিশ কুকুর -- তাদের মাঝে অন্তত একজন আছে যার এই দলে থাকার কথা ছিলনা ...<br /><br /><strong><em>সেপ্টেম্বর ১৩, ২০০৮</em></strong><br /><br /><br /></font>]]></description>
<pubDate>Thu, 18 Sep 2008 01:01:55 GMT</pubDate>
</item>


</channel>
</rss>

<!-- s08.mgl.re2.yahoo.com uncompressed/chunked Thu Dec  4 22:26:19 PST 2008 -->
