ঠিক মনে করতে পারছিনা কেন, হঠাত্ ঠিক করলাম
হারমান মেলভিলের লেখা পড়তে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম তার প্রধান উপন্যাস দুটি --
মোবি ডিক, আর
বিলি বাড, নাবিক। ঠিক করলাম প্রথমে বিলি বাড পড়ব। এর একটা কারণ এই যে উপন্যাসটি সংক্ষিপ্ততর, মোবি ডিকের ৫০০ পাতার মেদ হজম করাটি কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। বিলি বাড অনেক ছোট, উপন্যাসিকা বললেই হয়।
এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে প্রত্যেকদিন বিলি বাড খুলে নিতাম বিছানায় শুয়ে, ঘন্টাখানেকের ধস্তাধস্তিতে তিন চার অনুচ্ছেদ পড়তাম, মাথায় কিছুই প্রবেশ করত না -- এবং অতিদীর্ঘ গসাগু কষবার সময় যেভাবে খাতার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দাগ ও সংখ্যা ক্রমশ-হ্রস্ব হতে হতে মিলিয়ে যায়, আমার উত্সাহও একই প্রক্রিয়ায় খাট হতে থাকল। যে সংকলনের অংশ ছিল উপন্যাসটি, অনেক কষ্টে সেখান থেকে একটি ছোট গল্প পড়ে নিজের মেলভিল অাগ্রহের সলিল সমাধি দিলাম।
যেটা করা উচিত ছিল, সেটাই করা শুরু করলাম কিছুদিন আগে। মোবি ডিক পড়া শুরু করলাম। মোবি ডিক মেলভিলের প্রধান উপন্যাস, এবং মার্কিন সাহিত্যের মহত্তম মাস্টারপীস-গুলির মধ্যে গণ্য। অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী।
তিমি মেরে তার তেল বের করে বিক্রি করাটি কয়েক শত বছর যাবত একটা বিরাট ব্যবসা ছিল।
ম্যাসাচুসেটস-এর উপকূল থেকে একটি তিমি ধরা জাহাজ এই একই কারণে রওনা দেয়, কিন্তু রওনা দেয়ার পর জাহাজের নাবিক ও শিকারীরা জানতে পারে যে এই যাত্রার উদ্দেশ্যটি একটু ভিন্ন। মোবি ডিক নামে পরিচিত বিশালায়তন, হিংস্র ও অসাধারণ বুদ্ধিমান একটি বিশেষ তিমিকে মারাটাই এই যাত্রার লক্ষ্য, কারণ জাহাজের ক্যপ্টেন এহ্যাব এর আগের এক যাত্রায় এই তিমির হাতে তার পা, কিছু সহযাত্রী এবং মান-সম্মান খুইয়েছেন। সারা পৃথিবীর মহাসাগরগুলিতে ঘুরে এহ্যাবের জাহাজ খুঁজে বেড়াতে থাকে মোবি ডিককে, আর মাঝে মাঝে তাদের দেখা হয় সেই তিমির হাতে পরাজিত অন্য জাহাজের বিষন্ন নাবিকদের সাথে। ভয়ংকর টেনশন! টেনশন আরো বেশি, কারণ মোবি ডিক সুবিখ্যাত হলেও শিকারীরাও কম নয়, জাহাজের অসাধারণ
হারপুন ক্ষেপকদের সাথে মেলভিল আমাদের খুব ভাল ভাবেই পরিচয় করিয়ে দেন।
শেষ সীনে কি হয়, সেটা অবশ্যই এখানে বলছিনা। তবে বইটি আবার পড়বার প্রয়োজন বোধ করছি। আমার বদভ্যাস আছে, গোয়েন্দা কাহিনী বা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী প্রথমবার ঠিক রসিয়ে রসিয়ে পড়তে পারিনা -- বাসে করে দীর্ঘ যাত্রার পর অনেকক্ষণ চেপে রাখা যাত্রী যেভাবে হালকা হওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন, কাহিনীর শেষ জানবার জন্য কিছুটা সেভাবেই অগ্রপশ্চাত না তাকিয়ে এগোতে থাকি। মোবি ডিক তার অ্যাডভেঞ্চার-আবহ সত্বেও সূক্ষ্ম ব্যাপার, অন্তত আরেকবার না পড়লে চলবে না।
উল্লেখ্য, বিলি বাডের যে সমস্যা, মোবি ডিকেও সেটা রয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজী গদ্য কঠিন, এবং অতি দীর্ঘ বাক্যে আকীর্ণ, কিন্তু আমার (অল্প) অভিজ্ঞতায় মেলভিলের মত আর কিছুই নয়। তবে মোবি ডিকের করলা খেয়ে সুবিধে হয়েছে, বিলি বাডের নিম আর ততটা অসহ্য মনে হচ্ছেনা। পরশুদিন থেকে আবার ধরেছি বিলি বাড, পাঁচ পাতা পড়েছি।